Top 10 সাধের খাবারের রেসিপি – ঘরোয়া স্বাদে ভালোবাসার রান্না
আমাদের বাঙালি ঘরে “সাধের খাবার” মানেই একটু বিশেষ কিছু। হয় গর্ভবতী মায়ের সাধ, নয়তো পরিবারের কারও প্রিয় রান্না। আমি আমার বাড়িতে যেসব রান্না করি আর সবাই খুব পছন্দ করে, সেখান থেকে আজ ১০টা সেরা সাধের খাবারের রেসিপি শেয়ার করছি। এগুলো খুব কঠিন কিছু না, কিন্তু স্বাদে একদম ঘরোয়া আর মন ভরানো।
১. খিচুড়ি (মুগ ডাল দিয়ে)
বৃষ্টি হোক বা বিশেষ দিন—মুগ ডালের খিচুড়ি আমার বাড়িতে সবসময় হিট।
উপকরণ:
-
গোবিন্দভোগ চাল ১ কাপ
-
মুগ ডাল ½ কাপ
-
আদা বাটা
-
জিরা
-
তেজপাতা
-
হলুদ, লবণ
-
ঘি
যেভাবে করি:
প্রথমে ডাল হালকা ভেজে ধুয়ে নিই। তারপর কড়াইয়ে ঘি গরম করে জিরা-তেজপাতা ফোড়ন দিই। চাল-ডাল দিয়ে ভালো করে নেড়ে গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিই। নরম হয়ে এলে উপর থেকে সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিই।
এই খিচুড়ির সাথে বেগুন ভাজা দিলে স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
২. ইলিশ মাছ ভাপা
ইলিশ মানেই বাঙালির সাধের খাবার।
উপকরণ:
-
ইলিশ মাছ
-
সরিষা বাটা
-
কাঁচা লংকা
-
হলুদ
-
সরিষার তেল
রান্না:
মাছের সাথে সব মসলা মেখে স্টিলের বাটিতে রেখে ভাপে ১৫ মিনিট দিই। আমি প্রেসার কুকারেও করি, তবে সিটি দিই না।
ভাতের সাথে গরম গরম খেতে একদম স্বর্গের স্বাদ।
![]() |
৩. চিংড়ি মালাইকারি
নারকেলের দুধের মিষ্টি স্বাদে চিংড়ি মালাইকারি সবাই খুব পছন্দ করে।
উপকরণ:
-
বড় চিংড়ি
-
পেঁয়াজ বাটা
-
আদা-রসুন
-
নারকেলের দুধ
-
গরম মসলা
রান্না:
চিংড়ি আগে হালকা ভেজে তুলে রাখি। তারপর মসলায় কষিয়ে নারকেলের দুধ দিয়ে ফুটিয়ে চিংড়ি দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখি।
পোলাওয়ের সাথে অসাধারণ লাগে।
৪. লুচি ও আলুর দম
সকালবেলার সাধের খাবার বলতে আমি লুচি-আলুর দমই বুঝি।
লুচি ময়দা দিয়ে নরম করে মেখে ভেজে নিই। আলুর দম টমেটো-আদা-জিরা দিয়ে কষিয়ে ঘন করি।
৫. পোলাও ও মুরগির রেজালা
বাড়িতে অতিথি এলে এই মেনুটা আমি প্রায়ই করি।
পোলাও ঘি, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে ভাজা চাল দিয়ে রান্না করি।
মুরগির রেজালা দই, কাজুবাটা আর গরম মসলা দিয়ে সাদা ঝোল করি।
৬. কষা মাংস
রবিবার মানেই আমাদের বাড়িতে কষা মাংস।
মাংস ধীরে ধীরে কষিয়ে নিতে হয়। আমি কম আঁচে ৪০-৪৫ মিনিট কষাই। তেল ছেড়ে এলে বুঝি রেডি।
৭. ডিমের কারি
সহজ আর প্রিয় একটা রান্না।
ডিম সেদ্ধ করে ভেজে নিই। পেঁয়াজ-টমেটো কষিয়ে ঝোল বানিয়ে ডিম দিয়ে ফুটিয়ে নিই।
৮. শুক্তো
সাধের দিনে একটু তিতকুটে শুক্তো না হলে যেন সম্পূর্ণ হয় না।
করলা, কাঁচা কলা, আলু, বেগুন দিয়ে সর্ষে-দুধ দিয়ে হালকা ঝোল করি।
৯. পায়েস
যেকোনো শুভ দিনে পায়েস আমি অবশ্যই করি।
গোবিন্দভোগ চাল, দুধ, চিনি, তেজপাতা দিয়ে ঘন করে রান্না করি। শেষে কিশমিশ-বাদাম দিই।
১০. টমেটো চাটনি
শেষ পাতে টমেটো চাটনি না হলে আমার খাওয়াটা অসম্পূর্ণ লাগে।
টমেটো কেটে চিনি, শুকনো লঙ্কা, পাঁচফোড়ন দিয়ে ঘন করে নিই।
🌼 শেষ কথা
এই ছিল আমার ঘরের ১০টা সাধের খাবারের রেসিপি। আমি যেমনভাবে বাড়িতে রান্না করি, ঠিক সেভাবেই লিখে দিলাম। খুব বেশি রেস্টুরেন্ট স্টাইল না—একদম ঘরোয়া স্বাদ।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন